সিজদায় যাওয়ার আগে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখা সুন্নাত

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

সিজদায় যাওয়ার সময় হাতের পূর্বে হাঁটু রাখাঃ এই মতটি দুর্বল…

حدثنا الحسَنُ بن علي وحُسَين بن عيسى، قالا: حدثنا يزيدُ بن هارون، أخبرنا شَريك، عن عاصم بن كُلَيب، عن أبيه عن وائل بن حُجر، قال: رأيت النبىصلى الله عليه وسلم إذا سجدَ وَضَعَ رُكْبتيهِ قبل يديهِ، وإذا نَهَضَ رفع يديه قبلَ رُكبتيهِ

১. ওয়াইল ইবনে হুজর(রা) বলেন, আমি রসূল(স) কে ছলাত পড়া অবস্থায় সিজদায় যাওয়ার সময় (মাটিতে) হাতের পূর্বে হাঁটু রাখতে দেখেছি এবং সিজদাহ থেকে দাঁড়ানোর সময় হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন। (তিরমিযী, হা/২৬৮; আবু দাউদ, হা/৮৩৮; নাসাঈ, হা/১০৮৯; ইবনে মাজাহ, হা/৮৮২; ইবনে খুযাইমাহ, হা/৬২৯; ইবনে হিব্বান, হা/১৯১২; দারিমী, হা/১৩৫৯; দারাক্বুত্বনী, হা/১৩০৭; বুলুগুল মারাম, হা/৩১১; মিশকাত, হা/৮৯৮)

ইমাম ইবনে খুযাইমাহ তার “ছহীহ” তে (হা/৬২৯) হাদীছটি এনেছেন। অর্থাৎ তার নিকট এই হাদীছটি ছহীহ এবং এর রাবীগণ ছিক্বাহ।

ইমাম ইবনে হিব্বান তার “ছহীহ” তে (হা/১৯১২) হাদীছটি এনেছেন। অর্থাৎ তার নিকট এই হাদীছটি ছহীহ এবং এর রাবীগণ ছিক্বাহ।

ইমাম নাছিরুদ্দীন আলবানী বলেন, হাদীছটি দুর্বল। (নাছিরুদ্দীন আলবানী, তাহক্বীক্ব আবু দাউদ, হা/৮৩৮)

ইয়াসির হাসান বলেন, হাদীছটি হাসান। (ইয়াসির হাসান, তাহক্বীক্ব নাসাঈ, হা/১০৮৯)

শু’আইব আরনাউত্ব বলেন, হাদীছটি হাসান। কিন্তু সানাদ দুর্বল শারীক ইবনে আবদুল্লাহ নাখয়ীর স্মৃতিশক্তি খারাপের কারণে। (শু’আইব আরনাউত্ব, তাহক্বীক্ব আবু দাউদ, হা/৮৩৮)

হুসাইন সালিম আসাদ দারানী বলেন, এর সানাদ হাসান। (হুসাইন সালিম আসাদ দারানী, তাহক্বীক্ব দারিমী, হা/১৩৫৯)

মুছত্বাফা আল-আযমী বলেন, এর সানাদ দুর্বল। (মুছত্বাফা আল-আযমী, তাহক্বীক্ব ইবনে খুযাইমাহ, হা/৬২৯)

হাফিয যুবাইর আলী যাঈ বলেন, এর সানাদ দুর্বল। কেননা শারীক ক্বাযী মুদাল্লিস। (যুবাইর আলী যাঈ, তাহক্বীক্ব আবু দাউদ, হা/৮৩৮)

মাজদী ইবনে মানছূর ইবনে সাঈদ আশ-শাওরী বলেন, এর সানাদ দুর্বল। (মাজদী ইবনে মানছূর ইবনে সাঈদ আশ-শাওরী, তাহক্বীক্ব দারাক্বুত্বনী, হা/১২৯২)

সামীর ইবনে আমীন বলেন, হাদীছটি দুর্বল। তার (শারীক ইবনে আবদুল্লাহ নাখয়ীর) স্মৃতিশক্তি খারাপ। (সামীর ইবনে আমীন, তাহক্বীক্ব বুলুগুল মারাম, হা/৩০৯)

মাহির ইয়াসীন বলেন, হাদীছটি দুর্বল। কেননা শারীক ইবনে আবদুল্লাহ নাখয়ী একাকী বর্ণনা করলে (তাফাররুদ এর ক্ষেত্রে) দুর্বল। (মাহির ইয়াসীন, তাহক্বীক্ব ইবনে খুযাইমাহ, হা/৬২৬)

শারীক ইবনে আবদুল্লাহ নাখয়ী একজন মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৫৬)

আর একজন মুদাল্লিসের হাদীছ তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী ‘হাদ্দাছানা’ বা ‘সামি’তু’ বা ‘আখবারানা’ বা ‘ছানা’ বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীছের শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীছের কোন শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।

শারীক ইবনে আবদুল্লাহ নাখয়ী সম্পর্কে দেখুন। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ২৭৩৬)

حدثنا محمد بن مَعمَر، حدثنا حجّاج بن مِنَهال، حدَثنا همّام، حدَثنا محمد بن جُحَادة، عن عبد الجبار بن وائل عن أبيه: أن النبيصلى الله عليه وسلم، فذكر حديثَ الصلاة، قال: فلما سجد وَقَعَتا رُكْبتاه إلى الأرض قبل أن تقعَا كَفَّاه

قال همامٌ: وحدثني شَقيقٌ، حدثني عاصم بن كُلَيب، عن أبيه، عن النبيصلى الله عليه وسلم، بمثل هذا ، وفي حديث أحدهماوأكبرُ عِلْمي أنه في حديث محمد بن جُحَادة-: وإذا نهضَ نهضَ على رُكْبتيهِ، واعتمدَ على فَخِذِه

২. ওয়াইল ইবনে হুজর(রা) বলেন, রসূল(স) সিজদায় যাওয়ার সময় হাত রাখার পূর্বে হাঁটু মাটিতে রাখতেন। (আবু দাউদ, হা/৮৩৯)

ইমাম নাছিরুদ্দীন আলবানী বলেন, হাদীছটি দুর্বল। (নাছিরুদ্দীন আলবানী, তাহক্বীক্ব আবু দাউদ, হা/৮৩৯)

ইয়াসির হাসান বলেন, হাদীছটি হাসান। কিন্তু সানাদটি মুনক্বাতি কেননা আবদুল জাব্বার ইবনে ওয়াইল তার পিতা থেকে শুনেন নি। (ইয়াসির হাসান, তাহক্বীক্ব আবু দাউদ, হা/৮৩৯)

শু’আইব আরনাউত্ব বলেন, হাদীছটি হাসান। কিন্তু সানাদটি মুনক্বাতি কেননা আবদুল জাব্বার ইবনে ওয়াইল তার পিতা থেকে শুনেন নি। (শু’আইব আরনাউত্ব, তাহক্বীক্ব আবু দাউদ, হা/৮৩৯)

হাফিয যুবাইর আলী যাঈ বলেন, এর সানাদ দুর্বল। কেননা আবদুল জাব্বার ইবনে ওয়াইল তার পিতা থেকে শুনেন নি। (যুবাইর আলী যাঈ, তাহক্বীক্ব আবু দাউদ, হা/৭৩৬)

আবদুল জাব্বার ইবনে ওয়াইল সম্পর্কে দেখুন। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৩৬৯৭)

আবু দাউদের (হা/৮৩৯) হাদীছের অন্য সানাদটিতে শাক্বীক্ব আবু লাইছ আছেন যিনি মাজহূল। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, তাক্বরীবুত তাহযীব, রাবী নং ২৮১৯)

আর আছিম ইবনে কুলাইব এর পিতা কুলাইব ইবনে শিহাব সরাসরি রসূল(স) থেকে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি রসূল(স) কে পান নি কেননা তিনি একজন তাবিঈ। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৪৯৯১)

অর্থাৎ, এই হাদীছটি মুরসাল যা দলীলযোগ্য নয়। কেননা এর ছহীহ শাওয়াহিদ হাদীছ নেই।

সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটুর পূর্বে হাত রাখাঃ এই মতটি ছহীহ…

حدثنا سعيدُ بن منصورِ، حدثنا عبدُ العزيز بن محمدٍ، حدثنى محمدُ بن عبدِ الله بن حسنٍ، عن أبي الزّناد، عن الأعرَج عن أبي هريرة قال: قال رسول اللهصلى الله عليه وسلم -: إذا سَجَدَ أحدُكم فلا يَبرُك كما يَبرُكُ البعيرُ، وليَضَع يديهِ قبل رُكبتيهِ

১. রসূল(স) বলেন, তোমরা সিজদাহ করার সময় উটের ন্যায় বসবে না এবং সিজদায় যেতে মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখবে। (আবু দাউদ, হা/৮৪০; নাসাঈ, হা/১০৯১; দারিমী, হা/১৩৬০; মুসনাদে আহমাদ, ২/৩৮১, হা/৮৯৫৫; দারাক্বুত্বনী, হা/১৩০৪; বুলুগুল মারাম, হা/৩১০; মিশকাত, হা/৮৯৯)

ইমাম ইবনে হাজার আসক্বালানী বলেন, এই হাদীছটি ওয়াইল ইবনে হুজর(রা) এর হাদীছের থেকে বেশী শক্তিশালী। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, বুলুগুল মারাম, হা/৩১০)

ইমাম নাছিরুদ্দীন আলবানী বলেন, হাদীছটি ছহীহ। (নাছিরুদ্দীন আলবানী, তাহক্বীক্ব আবু দাউদ, হা/৮৪০)

ইয়াসির হাসান বলেন, এর সানাদ শক্তিশালী। (ইয়াসির হাসান, তাহক্বীক্ব নাসাঈ, হা/১০৯১)

শু’আইব আরনাউত্ব বলেন, এর সানাদ শক্তিশালী। (শু’আইব আরনাউত্ব, তাহক্বীক্ব আবু দাউদ, হা/৮৪০)

হামযাহ আহমাদ যাঈন বলেন, এর সানাদ ছহীহ। (হামযাহ আহমাদ যাঈন, তাহক্বীক্ব মুসনাদে আহমাদ, ২/৩৮১, হা/৮৯৩৫)

হাফিয যুবাইর আলী যাঈ বলেন, এর সানাদ হাসান। (যুবাইর আলী যাঈ, তাহক্বীক্ব আবু দাউদ, হা/৮৪০)

মাজদী ইবনে মানছূর ইবনে সাঈদ আশ-শাওরী বলেন, এর সানাদ ছহীহ। (মাজদী ইবনে মানছূর ইবনে সাঈদ আশ-শাওরী, তাহক্বীক্ব দারাক্বুত্বনী, হা/১২৮৯)

হুসাইন সালিম আসাদ দারানী বলেন, এর সানাদ ছহীহ। (হুসাইন সালিম আসাদ দারানী, তাহক্বীক্ব দারিমী, হা/১৩৬০)

সামীর ইবনে আমীন বলেন, হাদীছটি ছহীহ। (সামীর ইবনে আমীন, তাহক্বীক্ব বুলুগুল মারাম, হা/৩০৮)

মাহির ইয়াসীন বলেন, হাদীছটি দুর্বল। কেননা আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ একাকী এটি বর্ণনা করেছেন। আর তিনি হচ্ছেন সেই রাবী, যার একক বর্ণনা (তাফাররুদ এর ক্ষেত্রে) গ্রহণ করা হয় না। কেউ কেউ দাবী করেছেন এই হাদীছের মুতাবাআ’ত আছে। কিন্তু এটি সঠিক নয়। (মাহির ইয়াসীন, তাহক্বীক্ব বুলুগুল মারাম, হা/৩১০)

কিন্তু আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ ছিক্বাহ ছিলেন। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৩৪৭০)

এছাড়াও তিনি একজন ইমাম, আ’লিম ও মুহাদ্দিছ ছিলেন। (যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ৮/৩৬৬, রাবী নং ১০৭)

আর ছিক্বাহ রাবী একাকী বর্ণনা করলেও তা সবার নিকট গ্রহণযোগ্য। আলহামদুলিল্লাহ

نا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ تَمَامٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَصْبُغُ بْنُ الْفَرَجِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَضَعُ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ، وَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُ ذَلِكَ

২. নাফি(র) বলেন, (আবদুল্লাহ) ইবনে উমার(রা) যখন সিজদাহ করতেন, তখন দুই হাঁটু রাখার পূর্বে দুই হাত রাখতেন। আর তিনি বলতেন, রসূল(স) এমনটি করতেন। (ইবনে খুযাইমাহ, হা/৬২৭; মুস্তাদরাক হাকিম, ১/২২৬, হা/৮২১; দারাক্বুত্বনী, হা/১৩০৩; বুলুগুল মারাম, হা/৩১২)

ইমাম বুখারী তা’লীক্ব হাদীছ হিসেবে এটিকে এনেছেন। (বুখারী, হা/৮০৩ এর পূর্বে)

ইমাম ইবনে হাজার আসক্বালানী বলেন, প্রথম হাদীছের (সিজদায় যেতে আগে হাত রাখার) জন্য ইবনে উমার(রা) এর হাদীছটি সাক্ষী, যাকে ইবনে খুযাইমাহ ছহীহ বলেছেন এবং ইমাম বুখারী তা’লীক্ব হাদীছ হিসেবে মাওক্বূফ ভাবে বর্ণনা করেছেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, বুলুগুল মারাম, হা/৩১২)

ইমাম ইবনে খুযাইমাহ তার “ছহীহ” তে (হা/৬২৭) হাদীছটি এনেছেন। অর্থাৎ তার নিকট এই হাদীছটি ছহীহ এবং এর রাবীগণ ছিক্বাহ।

ইমাম হাকিম তার মুস্তাদরাকে (হা/৮২১) মুসলিমের শর্তে ছহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।

ইমাম নাছিরুদ্দীন আলবানী বলেন, এর সানাদ ছহীহ। (নাছিরুদ্দীন আলবানী, হাশিয়াহ ইবনে খুযাইমাহ, হা/৬২৭)

হাফিয যুবাইর আলী যাঈ বলেন, এর সানাদ হাসান। (যুবাইর আলী যাঈ, মুখতাছার ছহীহ ছলাতুন নাবী(স), পৃঃ ১৭)

মাজদী ইবনে মানছূর ইবনে সাঈদ আশ-শাওরী বলেন, এর সানাদ ছহীহ। (মাজদী ইবনে মানছূর ইবনে সাঈদ আশ-শাওরী, তাহক্বীক্ব দারাক্বুত্বনী, হা/১২৮৮)

সামীর ইবনে আমীন বলেন, হাদীছটি হাসান। (সামীর ইবনে আমীন, তাহক্বীক্ব বুলুগুল মারাম, হা/৩১০)

মাহির ইয়াসীন বলেন, এর সানাদ দুর্বল। কেননা উবাইদুল্লাহ ইবনে উমার থেকে আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ এর বর্ণনা দুর্বল। (মাহির ইয়াসীন, তাহক্বীক্ব ইবনে খুযাইমাহ, হা/৬২৭)

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে শুধুমাত্র এই জারাহটি প্রমাণিত। (সুওয়ালাতু আবু দাউদ লিল-আহমাদ, রাবী নং ১৯৮)

কিন্তু এর বিপরীতে ইমাম ইবনে খুযাইমাহ (হা/৬২৭), ইমাম হাকিম (হা/৮২১), ইমাম তিরমিযী (হা/১৭৩৬), ইমাম ইবনে হিব্বান (হা/৬৩৯৭) প্রভৃতি ইমামগণ উবাইদুল্লাহ ইবনে উমার থেকে আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ এর হাদীছকে ছহীহ বলেছেন। সুতরাং, অধিকাংশ ইমামগণের মত অনুযায়ী উবাইদুল্লাহ ইবনে উমার থেকে আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ এর হাদীছ ছহীহ। আল্লাহু আ’লাম

সুতরাং, সিজদায় যাওয়ার আগে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখা সুন্নাত। আর উঠার সময় হাতে ভর দিয়ে উঠা উচিত। (বুখারী, হা/৮২৪)

তাই আমাদের সকলের উচিত তাক্বলীদ মুক্ত হয়ে ক্বুর’আন ও ছহীহ হাদীছ দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা এবং মেনে চলা। আল্লাহ আমাদের সকলকে হিদায়াত দান করুক। আমীন

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s