ক্বুনূতের পূর্বে তাকবীর দেওয়ার দলীল সমূহের পর্যালোচনা

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

ক্বুনূতের সময় তাকবীর দেওয়াঃ

كَمَا قَدْ حَدَّثَنَا بَكَّارُ بْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَكَمَا قَدْ حَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، ثُمَّ اجْتَمَعَا فَقَالَا: عَنْ مُخَارِقٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، قَالَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ صَلَاةَ الصُّبْحِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ كَبَّرَ، ثُمَّ قَنَتَ، ثُمَّ كَبَّرَ وَرَكَعَ، وَكَمَا حَدَّثَنَا بَكَّارٌ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُخَارِقٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَهُ

১. ত্বারিক্ব ইবনে শিহাব(র) বলেন, আমি উমার(রা) এর পিছনে সকালের (ফাজরের) ছলাত পড়েছি। যখন তিনি দ্বিতীয় রাক’আতের ক্বিরা’আত শেষ করলেন, তখন তাকবীর দিলেন, তারপর ক্বুনূত পড়লেন, তারপর তাকবীর দিলেন, তারপর রুকূ করলেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ২/৩১৫, হা/৭১০৭; মুছান্নাফ আবদুর রাযযাক্ব, ৩/১০৮, হা/৪৯৫৯; ত্বহাভী, শারহু মুশকিলিল আছার, হা/৪৫০৪ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

এই হাদীছের রাবী মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাঈল যখন সুফিয়ান ছাওরী থেকে বর্ণনা করবেন, তখন তিনি ছিক্বাহ। ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এটি “খাছ” ভাবে বলেছেন। (ইবনে আবু হাতিম, কিতাবুল জারহি ওয়াত তা’দীল, রাবী নং ১৭০৯)

তার সাথে ইমাম ইবনে হিব্বান (হা/৭৬১), ইমাম ইবনে খুযাইমাহ (হা/৪৭৯), ইমাম দারাক্বুত্বনী (হা/২২৮৪), ইমাম হাকিম (হা/৪০২৪), ইমাম তিরমিযী (হা/৪১৫), ইমাম ইবনে কাছীর (৮/২২৯, সূরা মা’আরিজ – আয়াত ৪০-৪৪) প্রভৃতি ইমামগণ একমত হয়েছেন। আর তিনি সুফিয়ান ছাওরী ছাড়া অন্য কোন রাবী থেকে বর্ণনা করলে, তখন ঐ বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য হবে না কেননা তার অত্যধিক ভুল হত। আল্লাহু আ’লাম

এছাড়াও তার মুতাবাআ’ত করেছেন আবু নুআইম ও ওয়াহব ইবনে জারীর। আর তারা উভয়ই ছিক্বাহ। (ত্বহাভী, শারহু মুশকিলিল আছার, হা/৪৫০৪ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

এই হাদীছের অপর রাবী সুফিয়ান ছাওরী মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৫১)

কিন্তু তার মুতাবাআ’ত করেছেন শু’বাহ ও ইসরাঈল। আর তারা উভয়ই ছিক্বাহ। (ত্বহাভী, শারহু মুশকিলিল আছার, হা/৪৫০৪ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

শু’আইব আরনাউত্ব বলেন, এর সানাদ বুখারীর শর্তে ছহীহ। (শু’আইব আরনাউত্ব, তাহক্বীক্ব শারহি মুশকিলিল আছার, হা/৪৫০৪ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

হাফিয যুবাইর আলী যাঈ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, বিতরের সময় ক্বুনূতের পূর্বে হানাফীদের মত রফউল ইয়াদাঈন করা যাবে কি? তিনি তখন বললেন, “যদি কেউ হানাফীদের মত রফউল ইয়াদাঈন করেন, তবে এটি ঠিক। এই ব্যাপারে কিছু আছার আছে। আর যদি কেউ রফউল ইয়াদাঈন না করেন, তাও ঠিক।” (মুহাম্মাদ আলী মির্যা, হাফিয যুবাইর আলী যাঈ এর ভিডিও রেকর্ডিং, ১৭ জুন, ২০০৯, দেখুন ০১:১২:৩৩ থেকে ০১:১৩:০০)

এই আছারগুলো নিয়েই এখানে আলোচনা করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ

সুতরাং, উক্ত মাওক্বূফ হাদীছটির সানাদ ছহীহ। আলহামদুলিল্লাহ

حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِي الْجَهْمِ، قَالَ: كَانَ الْبَرَاءُ يُكَبِّرُ قَبْلَ أَنْ يَقْنُتَ

২. আবু জাহম(র) বলেন, বারা’ ইবনে আযিব(রা) ক্বুনূতের পূর্বে তাকবীর দিতেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ২/৩১৫, হা/৭১০৯)

এই হাদীছের রাবী সুলাইমান ইবনে জাহম আবু জাহম ছিক্বাহ। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, তাক্বরীবুত তাহযীব, রাবী নং ২৫৪৩)

ইমাম ইজলী তাকে ছিক্বাহ বলেছেন। (ইজলী, আছ-ছিক্বাত, রাবী নং ২১১১)

ইমাম ইবনে হিব্বান তাকে ছিক্বাহ বলেছেন। (ইবনে হিব্বান, আছ-ছিক্বাত, ৪/৩১০, রাবী নং ৩০৫২)

ইমাম যুহাইর ইবনে মু’য়াবিয়াহ তার ব্যাপারে উত্তম প্রশংসা করেছেন। (ইবনে আবু হাতিম, কিতাবুল জারহি ওয়াত তা’দীল, রাবী নং ৪৬৫)

সুতরাং, উক্ত মাওক্বূফ হাদীছটির সানাদ ছহীহ। আলহামদুলিল্লাহ

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، أَنَّ عَلِيًّا، كَبَّرَ حِينَ قَنَتَ فِي الْفَجْرِ، وَكَبَّرَ حِينَ رَكَعَ

৩. আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী(র) বলেন, আলী(রা) যখন ফাজরের ক্বুনূত পড়তেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং যখন রুকূ করতেন, তখনও তাকবীর দিতেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ২/৩১৫, হা/৭১০৮; মুছান্নাফ আবদুর রাযযাক্ব, ৩/১০৯, হা/৪৯৬০; ত্বহাভী, শারহু মুশকিলিল আছার, হা/৪৫০৪ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

এই হাদীছের রাবী আবদুল আ’লা ইবনে আমির ছা’লাবী দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৩৬৮৪)

এই হাদীছের অপর রাবী সুফিয়ান ছাওরী মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৫১)

আর একজন মুদাল্লিসের হাদীছ তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী ‘হাদ্দাছানা’ বা ‘সামি’তু’ বা ‘আখবারানা’ বা ‘ছানা’ বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীছের শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীছের কোন শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।

এছাড়াও আলী(রা) থেকে এই হাদীছের অপর একটি শাওয়াহিদ হাদীছ রয়েছে। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ২/৩১৬, হা/৭১১৪)

এই হাদীছের রাবী মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু লাইলা দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৫৪০৬)

এই হাদীছের অপর রাবী নাদ্বর ইবনে ইসমাঈল দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৬৪১৬)

এই হাদীছের অপর রাবী হারিছ ইবনে আবদুল্লাহ দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ১০২৫)

এই হাদীছের অপর রাবী আবু ইসহাক্ব মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৯১)

আর একজন মুদাল্লিসের হাদীছ তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী ‘হাদ্দাছানা’ বা ‘সামি’তু’ বা ‘আখবারানা’ বা ‘ছানা’ বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীছের শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীছের কোন শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।

সুতরাং, আলী(রা) থেকে এই হাদীছটি প্রমাণিত নয়।

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، كَانَ إِذَا فَرَغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ كَبَّرَ ثُمَّ قَنَتَ، فَإِذَا فَرَغَ مِنَ الْقُنُوتِ، كَبَّرَ ثُمَّ رَكَعَ

৪. আসওয়াদ(র) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রা) যখন ক্বিরা’আত শেষ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন, তারপর ক্বুনূত পড়তেন। তারপর যখন তিনি ক্বুনূত শেষ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন, তারপর রুকূ করতেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ২/৩০৭, হা/৭০২২)

এই হাদীছের রাবী লাইছ ইবনে আবু সুলাইম দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৫০১৭)

এছাড়াও তিনি মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হিব্বান, মাশাহীরু উলামায়িল আমছার, রাবী নং ১১৫৩; হাইছামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১/৮৩, হা/২৭১)

আর একজন মুদাল্লিসের হাদীছ তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী ‘হাদ্দাছানা’ বা ‘সামি’তু’ বা ‘আখবারানা’ বা ‘ছানা’ বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীছের শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীছের কোন শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।

এছাড়াও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রা) থেকে এই হাদীছের অপর একটি শাওয়াহিদ হাদীছ রয়েছে। (ত্বহাভী, শারহু মুশকিলিল আছার, হা/৪৫০৪ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

এই হাদীছের রাবী হুদাইজ ইবনে মু’য়াবিয়াহ দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ১১৪৩)

এই হাদীছের অপর রাবী আবু ইসহাক্ব মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৯১)

আর একজন মুদাল্লিসের হাদীছ তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী ‘হাদ্দাছানা’ বা ‘সামি’তু’ বা ‘আখবারানা’ বা ‘ছানা’ বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীছের শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীছের কোন শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।

সুতরাং, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রা) থেকে এই হাদীছটি প্রমাণিত নয়।

ক্বুনূতের সময় হাত উত্তোলন করাঃ

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، قَالَ: كَانَ عُمَرُ يَقْنُتُ بِنَا بَعْدَ الرُّكُوعِ، وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يَبْدُوَ ضَبْعَاهُ، وَيُسْمَعَ صَوْتُهُ مِنْ وَرَاءِ الْمَسْجِدِ

১. আবু উছমান(র) বলেন, উমার(রা) আমাদের নিয়ে রুকূর পর ক্বুনূত পড়তেন ও তিনি তার দুই হাত উত্তোলন করতেন, এমনকি তা অনেক লম্বা ও দ্রুত করতেন এবং তার আওয়াজ মাসজিদের পিছন দিক থেকে শুনা যেতো। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ২/৩১৬, হা/৭১১৫)

এই হাদীছের রাবী জা’ফার ইবনে মাইমুন দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৯৫৯)

এছাড়াও উমার(রা) থেকে এই হাদীছের অপর একটি শাওয়াহিদ হাদীছ রয়েছে। (বাইহাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/৩১৫০)

ইমাম বাইহাক্বী বলেন, এটি উমার(রা) থেকে ছহীহ ভাবে বর্ণিত। (বাইহাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/৩১৫০)

কিন্তু এই হাদীছের রাবী ক্বাতাদাহ মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৯২)

এই হাদীছের অপর রাবী সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৫০)

আর একজন মুদাল্লিসের হাদীছ তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী ‘হাদ্দাছানা’ বা ‘সামি’তু’ বা ‘আখবারানা’ বা ‘ছানা’ বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীছের শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীছের কোন শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।

সুতরাং, উমার(রা) থেকে এই হাদীছটি প্রমাণিত নয়।

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ خَلَّاسِ بْنِ عَمْرٍو الْهَجَرِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ صَلَّى، فَقَنَتَ بِهِمْ فِي الْفَجْرِ بِالْبَصْرَةِ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى مَدَّ ضَبْعَيْهِ

২. খাল্লাস ইবনে আমর(র) বলেন, ইবনে আব্বাস(রা) বাছরাহ তে তাদের সাথে ফাজরের ছলাতে ক্বুনূত পড়েছেন। তারপর তিনি তার দুই হাত উত্তোলন করলেন, এমনকি তা অনেক লম্বা ও দ্রুত করলেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ২/৩১৬, হা/৭১১৭)

এই হাদীছের রাবী সুফিয়ান ছাওরী মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৫১)

আর একজন মুদাল্লিসের হাদীছ তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী ‘হাদ্দাছানা’ বা ‘সামি’তু’ বা ‘আখবারানা’ বা ‘ছানা’ বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীছের শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীছের কোন শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।

সুতরাং, ইবনে আব্বাস(রা) থেকে এই হাদীছটি প্রমাণিত নয়।

সুতরাং, ক্বুনূতের পূর্বে তাকবীর দেওয়া ছাহাবীদের থেকে প্রমাণিত। উমার(রা) ও বারা’ ইবনে আযিব(রা) ক্বুনূতের পূর্বে তাকবীর দিতেন। আর কেউ যদি হাত তুলে দু’আ ক্বুনূত পড়ে তাতেও অসুবিধা নেই। এই বিষয় নিয়ে আমাদের বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। তাই আমাদের সকলের উচিত তাক্বলীদ মুক্ত হয়ে ক্বুর’আন ও ছহীহ হাদীছ দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা এবং মেনে চলা। আল্লাহ আমাদের সকলকে হিদায়াত দান করুক। আমীন

Advertisements

2 thoughts on “ক্বুনূতের পূর্বে তাকবীর দেওয়ার দলীল সমূহের পর্যালোচনা

  1. আসসালামু আলাইকুম, ভাইজান আমি শুধু একটা বিষয় জানতে চাই, যেমন করে অাহনাফগন কুনুতের আগে একবার হাত উঠিয়ে বেঁধে নেন তার কি কোনো দলিল আছে?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s