জুমু’আহর পূর্বে চার রাক’আত ছলাত আদায় করা ছাহাবীদের থেকে প্রমাণিত

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

حَدَّثَنَا فَهْدٌ , قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ , قَالَ: ثنا عُبَيْدِ اللهِ , عَنْ زَيْدٍ , عَنْ جَبَلَةَ بْنِ سُحَيْمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا , لَا يَفْصِلُ بَيْنَهُنَّ بِسَلَامٍ , ثُمَّ بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ , ثُمَّ أَرْبَعًا

১. জাবালাহ ইবনে সুহাইম(র) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার(রা) জুমু’আহর পূর্বে চার রাক’আত ছলাত আদায় করতেন। তিনি এর মাঝে সালাম ফিরাতেন না। অতঃপর জুমু’আহর পরে (প্রথমে) দুই রাক’আত ও তারপর চার রাক’আত (ছলাত) আদায় করতেন। (ত্বহাভী, শারহু মাআ’নিল আছার, হা/১৯৬৫)

নিম্নে এই হাদীছের রাবীগণের ব্যাপারে আলোচনা করা হলঃ

এই হাদীছের রাবী ফাহাদ ইবনে সুলাইমান ছিক্বাহ ছিলেন। (তারীখু ইবনে ইউনূস, রাবী নং ৪৫২)

এই হাদীছের অপর রাবী আলী ইবনে মা’বাদ ইবনে শাদ্দাদ ইমাম, হাফিয, ফক্বীহ ছিলেন। (যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ১০/৬৩১, রাবী নং ২১৯)

এই হাদীছের অপর রাবী উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর ছিক্বাহ, হাফিয ছিলেন। (যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ৮/৩১০, রাবী নং ৮২)

এই হাদীছের অপর রাবী যাইদ ইবনে আবু উনাইসাহ ইমাম, হাফিয ছিলেন। (যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ৬/৮৮, রাবী নং ২২)

এই হাদীছের অপর রাবী জাবালাহ ইবনে সুহাইম ছিক্বাহ ছিলেন। (যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ৫/৩১৫, রাবী নং ১৫২)

সুতরাং, উক্ত মাওক্বূফ হাদীছটির সানাদ ছহীহ। আলহামদুলিল্লাহ

وَذَكَرَ الْأَثْرَمُ قَالَ حَدَّثَنَا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ قَالَ أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِي عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ أَرَى أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَامُوا فَصَلُّوا أَرْبَعًا

২. সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ ইবনুল আছ(র) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ(স) এর ছাহাবীগণকে দেখতাম জুমু’আহর দিনে যখন সূর্য ঢলে যেত, তখন তারা দাঁড়িয়ে যেতেন ও চার রাক’আত ছলাত আদায় করতেন। (ইবনে আবদিল বার, আত-তামহীদ, ৪/২৬)

ইমাম আবু বাকর আল-আছরামের উদ্ধৃতিতে ইমাম ইবনে আবদিল বার উপরোক্ত হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।

নিম্নে এই হাদীছের রাবীগণের ব্যাপারে আলোচনা করা হলঃ

এই হাদীছের রাবী মিনজাব ইবনুল হারিছ ছিক্বাহ ছিলেন। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৬১৭৫)

এই হাদীছের অপর রাবী খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ ইবনুল আছ ছিক্বাহ ছিলেন। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ১৬১৭)

এই হাদীছের অপর রাবী সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ ইবনুল আছ ছিক্বাহ ছিলেন। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ২৩৩২)

সুতরাং, উক্ত মাকতূ হাদীছটির সানাদ ছহীহ। আলহামদুলিল্লাহ

 عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنِ الثَّوْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ قَالَ : كَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَأْمُرُنَا أَنْ نُصَلِّيَ قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا، وَبَعْدَهَا أَرْبَعًا، حَتَّى جَاءَنَا عَلِيٌّ فَأَمَرَنَا أَنْ نُصَلِّيَ بَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَرْبَعًا

৩. আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী(র) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রা) জুমু’আহর পূর্বে চার রাক’আত ও জুমু’আহর পরে চার রাক’আত ছলাত আদায়ের আদেশ করতেন। যখন আলী(রা) আগমন করেন, তখন তিনি আমাদেরকে জুমু’আহর পরে (প্রথমে) দুই রাক’আত ও তারপর চার রাক’আত ছলাত আদায়ের আদেশ করেন। (মুছান্নাফ আবদুর রাযযাক্ব, ৩/২৪৭, হা/৫৫২৫)

এই হাদীছের রাবী সুফিয়ান ছাওরী মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৫১)

আর একজন মুদাল্লিসের হাদীছ তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী ‘হাদ্দাছানা’ বা ‘সামি’তু’ বা ‘আখবারানা’ বা ‘ছানা’ বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীছের শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীছের কোন শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।

এছাড়াও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রা) থেকে এই হাদীছের অপর একটি শাওয়াহিদ হাদীছ রয়েছে। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ২/১৩১, হা/৫৪০৭)

এই হাদীছের রাবী খুছাইফ ইবনে আবদুর রহমান দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ১৬৯৩)

এই হাদীছের অপর রাবী আবু উবাইদাহ তার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রা) থেকে শুনেন নি। (ইবনে আবু হাতিম, কিতাবুল মারাসীল, রাবী নং ৪৭৬)

সুতরাং, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রা) থেকে এই হাদীছটি প্রমাণিত নয়।

সুতরাং, জুমু’আহর পূর্বে চার রাক’আত ছলাত আদায় করা ছাহাবীদের থেকে প্রমাণিত। আবদুল্লাহ ইবনে উমার(রা) ও অন্যান্য ছাহাবীগণ তা আদায় করতেন। এই প্রবন্ধ লেখার উদ্দেশ্য হল, জুমু’আহর পূর্বে শুধুমাত্র চার রাক’আত ছলাত এক সালামে আদায় করাকে কেউ যেন বিদ’আত না বলে। কেননা ছাহাবীগণ এভাবে তা আদায় করতেন। কিন্তু চার রাক’আতই পড়তে হবে অথবা বেশী বা কম পড়া যাবে না এই সমস্ত মত ভুল। কেননা ইমাম মিম্বারে উঠার পূর্ব পর্যন্ত ছলাত আদায়ের ছহীহ হাদীছ রয়েছে। (বুখারী, হা/৯১০)

তাই আমাদের সকলের উচিত তাক্বলীদ মুক্ত হয়ে ক্বুর’আন ও ছহীহ হাদীছ দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা এবং মেনে চলা। আল্লাহ আমাদের সকলকে হিদায়াত দান করুক। আমীন

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s